প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক জেলা আবারও বন্যার কবলে পড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান, মৌলভীবাজার সহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হয়েছে। পানির স্রোতে মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার ঘের এবং খামার।
অন্যদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে যে, বন্যায় দেশের ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে, প্রায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আউশ এবং আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য জানাচ্ছে যে, বন্যায় ৫ লাখের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী এবং যশোরসহ ১৬ জেলায়। এসব এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
যদিও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, তবুও এর বিরূপ প্রভাব এখনো কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে রয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বীজতলা ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। গবাদিপশুর খামারিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন যে, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক মন্তব্য করেছেন যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, অর্থের অপচয় রোধ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর জোর দিতে হবে। তিনি জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যও পরামর্শ দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন