প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির জন্য এবারের গ্রীষ্ম একটি ভীতিকর সতর্কবার্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং দাবানলের কারণে দেশটিতে অতিরিক্ত গরমের ফলস্বরূপ প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষ। এবারের গ্রীষ্মকাল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মের শেষ দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানায়, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা ও বৈরী আবহাওয়ার নজির দেশটিতে খুব কমই দেখা গেছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাসে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৩ সালে রেকর্ড হওয়া ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় এটি মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি কম।
৩০ ডিগ্রির ওপরে ছিল ২২ দিন
ডিডব্লিউডির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে এবার গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমের দিনের সংখ্যা ছিল অস্বাভাবিক। দেশজুড়ে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে কিছু এলাকায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়। এই তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।
শুধু গরমেই মৃত্যু ১৫ হাজার ৮০০
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপের কারণে জার্মানিতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষ। জুনের শেষের দিকে আঘাত হানা তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিডব্লিউডির মতে, জুনের শেষের সেই তাপপ্রবাহ বিশেষভাবে ভয়াবহ ছিল। প্রতিষ্ঠানটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে এর পেছনে দায়ী করেছে।
খরায় থমকে গেছে অর্থনীতিও
শুধু প্রাণহানি নয়, দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাব জার্মানির অর্থনীতিতেও পড়েছে। পানির স্তর কমে যাওয়ার ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
অস্ট্রিয়াতেও ভাঙল ২৬০ বছরের রেকর্ড
জার্মানি ছাড়া প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াও একই সময়ে তীব্র গরমের কবলে পড়েছে। দেশটির প্রায় ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ডে এবারের গ্রীষ্মকালকে সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারে অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করেছে। রেকর্ড তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহজনিত ব্যাপক প্রাণহানি, খরা এবং দাবানল - ইউরোপের এই দুই দেশের এবারের গ্রীষ্ম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তথ্য সূত্র-
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন