পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৬৫ বছরের ভোগ দখলীয় জমির বসত বাড়িতে হামলা ও মাছের ঘের লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবদুল বারেক হাওলাদার (৮২) নামের এক ব্যাক্তি। শনিবার দুপুরে কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল বারেক হাওলাদার বলেন, তিনি মহিপুর থানার বেতকাটা চর গ্রামের একজন ভূমিহীন কৃষক। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) সরকারের নিকট থেকে সেটেলমেন্ট কেস নং ৩২৭কে/১৯৫৪-৫৫ সালে যাহার মিস কেস নং ১৬১কে/১৯৬৬-৬৭ নং বন্দোবস্ত রুজু করিয়া দরখাস্তকারীর নিকট হইতে সেলামী গ্রহনে কলাপাড়া উপজেলার ৩৮নং জে.এল সোনাপাড়া মৌজা ও কিসমতে ১নং খাস খতিয়ানে ২৮৩৪নং দাগে ৭.০১ একর ভূমির বার্ষিক ২২.৫০/- টাকা খাজনা ধার্য্যে কবুলিয়ত ৩২৭কে/১৯৫৪-৫৫ সালে খাস জমি কায়েমী বন্দোবস্ত মূলে কবুলিয়ত প্রাপ্ত হয়ে দখল বুঝে পেয়ে তিনি কিছু জমিতে বাড়ি ঘর, পুকুর, বাগান নির্মান করিয়া পরিবার পরিজনসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং নাল জমি চাষাবাদ ও ঘের করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। তবে তার প্রতিপক্ষ মাঝেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০), ফোরকান (৪০), ফারুক, নেছার উদ্দিন (৩৫), বেতকাটা গ্রামের আ: রহিম হাওলাদার, মো. সোনা মিয়া, মোঃ রুবেল হাওলাদার (২৬), বেল্লাল (৩০), নয়ন (২৭) ও মোনসাতলী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩০) অন্যায়ভাবে ওই জমি বৌলতলী মৌজার জমি দাবী করে ২০১২ সালে তার উপর হামলা করলে তিনি পটুয়াখালী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
রবিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৭ ও ২০১৪ সালে কলাপাড়া বিজ্ঞ সহকারী জজ দুটি দেওয়ানী মামলা করেন করেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত ২০১৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী তার পক্ষে রায় দেয়। তবে বিবাদীপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপীল ৪৬/১৮, ৪৭/১৮ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। আপীল মোকদ্দমায় নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করিলে তিনি ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নং ৩০৪৭/১৯ ও ৩০৪৮/১৯ দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতের আদেশ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশটির রুলটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্ধিত করা হোক মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই মামলার আদেশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রতিপক্ষরা তার কাছে আগে থেকে ২০ লাখ টাকা ও ১.৫৩ একর জমি চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ জুন তার ঘর বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে তিনি কলাপাড়া বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৬৪/২৬ ও ৬২৫/২০২৬ নং মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি ওসি মহিপুর থানায় তদন্তের নির্দেশ দিলে ওসি মামলাটি এস.আই মো. জাকির হোসেন ও অন্য এক পুলিশের নিকট তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তার আসল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে এবং এখন পর্যন্ত আইনানুগ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বিধায় তারা ১১ সেপ্টেম্বর লাঠি, সোটা, খোন্তা, কোদাল ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে ঢুকে তার বসত ঘর ভাংচুর করে মাছের ঘেরের বাধ কেটে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়া যায়। বর্তমানে তিনি পরিবার পরিজন নিয়া মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি।
এবিষয়ে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। তার দেড় একর জমি কার্ড রয়েছে। কিন্তু সে ০৭ একর জমি দাবি করে। প্রথম কার্ড আমাদের। তাকে জরিপ করতে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ভুয়া পর্চা তৈরী করে জমি দাবি করতেছে।
মহিপুর থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, তিনি ৫৩ সালের কার্ড দেখিয়ে ০৭.০১ একর সম্পত্তি দাবি করেন। যার কারনে তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে।