প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, মাদক এখন আর শুধুমাত্র একক সমস্যা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
গাজীপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, গরু চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গাজীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় গাজীপুর সদরসহ কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম, গরু চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য নোট করেন এবং সাংবাদিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মাদক প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, 'মাদক এখন আর কোনো একক সমস্যা নয়। এটি শুধু পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, একটি পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল জেলা। এখানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। পুলিশ একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবেন, আর পুলিশ সেসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
সভায় সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমের নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে মানুষের সমস্যা ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অনেক অপরাধ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মোঃ আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি মোঃ আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
সভায় পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করে গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন