প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা ১ ডলার ১২২ টাকার ভিত্তিতে নির্ধারিত।
বৃহস্পতিবার জাপানের গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই অর্থের সংস্থান করতে রাজি হয়েছে জাপান সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হবে।
নিক্কেই এশিয়া জানাচ্ছে, এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং এশীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানো। এছাড়াও, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে অটোমোবাইলস, অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে। একই সঙ্গে, জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশনসহ অন্যান্য অংশীদারদের উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের সফরে জাপান যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে, ২৭ অক্টোবর, তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী একটি নৈশভোজের আয়োজন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। তিনি গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে জাপানের সঙ্গে আটটির মতো সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের আশা, এর মধ্যে তিন-চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ প্রকল্প নির্মাণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন