প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপিত খেজুরগাছগুলো ডালপালা মেলে অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পানি ছিটালে এসব চারাগাছের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে। 'মানুষ যে' নামের একটি সংগঠনের তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে বারবার পরিষ্কার করে চারাগুলোর পরিচর্যা করে আসছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জলিল নগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চারা পরিষ্কার করতে দেখা যায় ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল তরুণকে।
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা থেকে রাউজান মডেল মসজিদ পর্যন্ত চারাগাছগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কারণে সড়কের রূপ অনেকটাই বদলে গেছে। সংগঠনটির উদ্যোগে যুবকরা কিছুদিন পর পর যত্ন নেওয়ায় প্রায় মৃত অবস্থা থেকে চারাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নবনির্বাচিত সচিব তরুণ আলেম শায়ের মাছুমুর রশিদ কাদেরী জানান, খেজুরগাছ অত্যন্ত উপকারী। এর পাতা দিয়ে টেকসই পাটি, হাতপাখা, ঝুড়ি, চালনি ও বিভিন্ন শৌখিন হস্তশিল্প তৈরি করা যায়। গ্রামীণ এলাকায় গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ঘরের চাল বা ছাদ ঢাকতে এবং বেড়া তৈরিতে শুকানো খেজুর পাতা ও ডাল ব্যবহার করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফের কিছু অংশ খেজুরগাছের পাতায় লেখা হয়েছিল। তা ছাড়া মানুষ মারা গেলে কবরের ওপর একটি ডাল দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। তাই অতি জরুরি এসব খেজুর চারা যারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তাঁরা সওয়াবের অংশীদার হবেন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি নতুন চার লেন সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপণ করা হয় বিদেশি জাতের ৬০০টি খেজুরগাছ। প্রথম পর্যায়ে পৌর এলাকার মুন্সিরঘাটা থেকে চারাবটতল এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এসব চারা রোপণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সড়কের পশ্চিম গহিরা এলাকায় আরও শতাধিক খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। প্রথমে রাউজান পৌরসভা এসব গাছের পরিচর্যা, সার ও পানি দেওয়ার মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করত। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের এই কার্যক্রম একদম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পানির অভাবে অনেক গাছ শুকিয়ে মরেও গিয়েছিল।
বর্তমানে সড়ক-দ্বীপে মাত্র ২০ ইঞ্চি মাটির গভীরতা এবং নিচে ঢালাই থাকায় গাছের শিকড় পানিযুক্ত মাটিতে ঢুকতে পারছে না। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় গাছগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে বিকল্প উপায়ে পানি দিলে গাছগুলোতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হবে।
স্থানীয়রা জানান, আরবের দেশগুলোর মতো সড়ক-দ্বীপে খেজুরগাছ রোপণ করার বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ইতিমধ্যে কিছু গাছে অল্প অল্প ফলও এসেছে। তাই দেশের সম্পদ হিসেবে গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
'মানুষ যে' সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের সংগঠনের তরুণরা নিজ উদ্যোগে অনেকবার খেজুরগাছগুলো পরিষ্কার করেছেন। গত দুই বছর ধরে পরম যত্নে আমরা গাছগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করছি। গাছগুলো সড়কের শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আমাদের সংগঠন এসব খেজুরগাছ রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন