প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাদ কৃষির পরিসর বেড়ে গেছে, এবং এ সাথেই নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া এবং পরিবেশও তরমুজের চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. সেলিম গাজী অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। অসংখ্য থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রংয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। এই তরমুজ দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতার ভিড় জমছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করার ফলে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলনও বেশ ভালো এসেছে। যখন দেখবে তখন মন জুড়িয়ে যায়। আর ছাদে রয়েছে রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ। তরমুজ একটি উৎকৃষ্ট এবং তৃপ্তিদায়ক ফল। গরমের দিনে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ এবং পানি বেরিয়ে যায়, যা পূরণ করতে তরমুজ সহায়তা করে। এছাড়াও, তরমুজে লাইকোপিন রয়েছে, যা একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে সেলিম গাজীর বাড়ির ছাদে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রতিটি তরমুজকে লাল জালি দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানার গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে মাচা নুয়ে পড়েছে, দেখে মনে হচ্ছে যেন কালোর সমারোহ। পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। এ তরমুজ চাষ দেখতে এলাকাবাসী ভিড় করছেন। কৃষক সেলিম গাজীর সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন, এবং আমি পরামর্শ দিয়েছি। এক কথায়, কালো রঙের তরমুজ চাষে কৃষক সেলিম গাজী সত্যিই চমক দেখিয়েছেন।
কৃষক সেলিম গাজী বলেন, তিনি বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর ব্যবহার করে সার তৈরি করেন এবং সেই সার দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজের বীজ চারা করেন। তিনি ৫০টি থানা ছাদে তরমুজের চারা রোপন করেন। প্রথমদিকের বৃষ্টিতে কিছু চারা নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ২৫টি থানার চারা ভালো ছিল, যার ফলে ৪০টি তরমুজ হয়েছে। এই লাভ তার পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এই পদ্ধতির জন্য শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ খুব কম হয়ে যায়। এছাড়াও, আগাছা হয় না বলেই কোন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা নেই। দফায় দফায় সার দেওয়ার ঝামেলাও নেই। জোষ্ঠ মাসে তিনি প্রথম চারা রোপন করেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত জানেন এবং সার ও ঔষধ দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পেয়ে থাকেন। এরপর তিনি প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছাদে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ চাষ করেন। এ তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানার জিওব্যাগের মাধ্যমে চাষ করবেন বলে জানান। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি তার ক্ষেত প্রস্তুত করেছেন বলেন জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক এবং তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি এবং নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ছোট পরিসরে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, বর্ষা মওসুমে মালচিং পদ্ধতির মাধ্যমে তরমুজ চাষাবাদ করাটা উত্তম। কারণ, বস্তার কারণে কিছু দিনের মধ্যে বস্তা পচে যায়। তরমুজ একটি লাভজনক কৃষি উপাদান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন