প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৬ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। রোগীর চাপ মোকাবেলার জন্য ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা ৫টি থেকে ২৫টি করা হলেও, তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। কিছু রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ৬ জন, জুনে ৪ জন, জুলাইয়ে ১৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরের ২৬ দিনে ভর্তি হওয়া ১০৪ জন রোগীসহ চলতি বছরে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা ২০৪ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র পাঁচটি শয্যা নির্ধারিত ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫টি শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এসব শয্যায় জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্যান্য রোগীসহ প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাকিলা আফরোজ বলেন, "বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে তাঁদের কষ্ট হচ্ছে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ ময়না জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তিনি বলেন, "মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, "চলতি মৌসুমের শুরু থেকে মশক নিধনে তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও মশার প্রজননস্থল অপরিষ্কার থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।"
রমেশ মন্ডল নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, "শুধু ওষুধ ছিটালে হবে না। ড্রেন-নালা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো দরকার।"
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মশক নিধনে কার্যক্রম চলছে। পৌরসভার সচিব লালু সরদার বলেন, "স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভার অর্থায়নে গত ৩০ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন