প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। আলোচিত ছয়টি রায়ে ১৬জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি এই মামলার অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চব্বিশের জুলাই-আ Gustষ্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অন্য যে কোনো আদালতের তুলনায় সেনসেটিভ ৬টি মামলায় রায় ঘোষণার সময়কাল অনেক কম ছিল, যা দৃষ্টান্তমূলক। উল্লেখযোগ্য যে, এখনও অনেক মামলার বিচার দুটি ট্রাইব্যুনালে চলছে এবং সেগুলো বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করবে।
প্রথম রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে 'রাজসাক্ষী' হওয়া পুলিশের প্রতিষ্ঠিত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, এর পাশাপাশি শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় রায়ে ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি এই রায় প্রদান করে। এতে দুই জন সাবেক কমিশনার ও এক সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনারসহ আরো আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া, এই মামলার রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন— সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এই বিচারে অন্য আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায়, যেখানে শহীদ হয়েছিলেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক।
লাশ পোড়ানোর মামলায় তৃতীয় রায়
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থान চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয় জনের লাশ পোড়ানো এবং অন্যান্য হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে আরো সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
এই রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী এবং আরো কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার চতুর্থ রায়
চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলায় বাকি আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চব্বিশের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের মধ্যে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড প্রদান হয়েছে। এসব মামলার বিচারে বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের দণ্ড দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যকলাপে একটি নতুন অধ্যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন