প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিসর আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ইসরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
অ্যাক্সিওস এর প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে যে, চলতি সপ্তাহের সূচনায় হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক সামরিক বিকল্প বিষয়ে আলোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা সামরিক পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো।
এই পরিকল্পনার পাশাপাশি ইউরেনিয়ামের মজুদ মাটির নিচে আরো পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত আঘাত ও দেশটির নির্মাণাধীন ভূগর্ভস্থ পিকাক্স মাউন্টেন সাইটে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টিও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেননি, তবে একটি বৃহত্তর আক্রমণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবছে। সম্ভাব্য এই হামলার মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মার্কিন শর্তগুলো মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করা।
এই প্রতিবেদনটি সেই সময় এসেছে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা বেশ কয়েক দিন ধরে হরমুজ প্রণালী ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রসদ, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সৈন্য চলাচল ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর একটি প্রধান সরবরাহ কেন্দ্রের নিকট বন্দর আব্বাসের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এমনকি, সিরিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি, যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সেনারা কয়েক মাস আগে ওই ঘাঁটি থেকে সরে গিয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলের তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিন ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে একই সংখ্যক মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনে এ বিমানবহরকে সংঘাতের শুরুর দিকের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে আরো কয়েক ডজন বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আঞ্চলিক অন্যান্য ঘাঁটিগুলো ইরানি মিসাইল হামলার ঝুঁকিতে থাকায় মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেশি আগ্রহী। তবে, এই প্রস্তাবিত বিমান মোতায়েনটি বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের কারণে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান সেখানে জায়গা দখল করে থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ ইতিমধ্যে সেখান থেকে মার্কিন বিমানের সংখ্যা কমানোর বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থার জন্য ইসরায়েলি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাতে থাকার আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন