প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ছিটমহল সেউতার সীমান্তে গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের জেরে এই বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়েছিল।
মরক্কো থেকে সেউতা অভিমুখে এই আকস্মিক অভিবাসী যাত্রার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল সামাজিক মাধ্যমের কিছু ভুল বার্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে বহু মানুষ সাঁতার কেটে কিংবা মরক্কোর দিক থেকে বিভিন্ন যানবাহনে চেপে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। অনেকের মধ্যে অনেকে মাস ধরে সাঁতার শিখেছিলেন এবং ফেসবুকে সাঁতারের পোশাক বা ফ্লিপার বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এমনকি গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশট এবং আরবি ভাষায় সমুদ্রের অবস্থার বিবরণ শেয়ার করে সেউতার তরাইয়াল সৈকতে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রবল স্রোত এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া এই বিশাল জনস্রোতের কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কো ও সেউতার মধ্যকার সরাসরি সমুদ্রপথটি খুব একটা দীর্ঘ নয়, তথাপি প্রবল স্রোত, দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে থাকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বহু মানুষ চরম বিপদে পড়েন।
অভিবাসীরা যখন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বা স্থলপথে সেউতার অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পৌঁছান, তখন তারা সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা দেখতে পান। খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আশায় আসা মানুষগুলো দেখতে পায় যে অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ার কারণে সেউতা জুড়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে, গাড়িতে কিংবা বড় বড় যানে চড়ে এমনভাবে প্রবেশ করেন যে সেখানে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজেই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সেউতা সফর করেন এবং এই পুরো সংকটের জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে তীব্রভাবে দায়ী করেন।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গত জুনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের অত্যন্ত স্বার্থপর ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিয়েছিল পাচারকারীরা, যা দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জুনের সেই রায়ে বলা হয়েছিল যে মেলিলা বা সেউতাে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।
তবে এই ঘটনার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেউতার এই অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার-মুক্ত শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের পক্ষ থেকে ইইউ-এর কিছু সদস্য রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত স্বার্থপর, মেরুকরণকারী এবং বেআইনি বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন