প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে। আলোচনায় ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা জোরদারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেকহোল্ডারস মিট-আনলক পসিবিলিটিজ ইন দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার অব প্রগ্রেস’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন, বিনিয়োগকারী এবং বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় দেশের অর্থনীতির পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অধ্যায়ে পুঁজিবাজারের ভূমিকা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে নেওয়া সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ ও সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে ইউসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ মন্তব্য করেন, ‘গত দুই বছরে আমরা ব্যাংকের তারল্য, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আদায় কার্যক্রম এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এর ফলে ব্যাংকটি এখন স্থিতিশীলতা থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের চলমান রাইট শেয়ার ইস্যু ব্যাংকের মূলধনভিত্তি আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়াবে। এই যাত্রায় শেয়ারহোল্ডার ও পুঁজিবাজারের অংশীজনদের আস্থা ও অংশগ্রহণ ইউসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাম্প্রতিক টার্নঅ্যারাউন্ড যাত্রা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সুস্পষ্ট কৌশলগত দিকনির্দেশনা এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউসিবির এই অগ্রযাত্রায় রূপালী ব্যাংক ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে এবং দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাংকখাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ইউসিবি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউসিবি নির্ভরযোগ্য, এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তা প্রমাণ করেছে।’
আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের মূলধনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও উঠে আসে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকগুলোর মূলধন অবস্থান শক্তিশালী করা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
গত দুই বছরে ইউসিবির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। ব্যাংকটির অবস্থান আরও সুসংহত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির রাইটস শেয়ার ইস্যুতে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
আয়োজকদের মতে, বিনিয়োগকারী, ইস্যুয়ার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় পুঁজিবাজারে আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও গভীর, কার্যকর ও শক্তিশালী বাজার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন