প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এসেছে, যার উদ্দেশ্য হলো জরুরি টাকার প্রয়োজনের সময় যেন কেউ অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হন। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে জরুরি পেমেন্ট সেবা।
যারা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে, এই ঋণ সরাসরি ব্যাংক থেকে দেওয়া হবে না।
ঋণটি ব্যাংক একাউন্টের ডিপিএস-এর টাকা পরিশোধ অথবা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
যেসব প্রয়োজন মেটাতে দেওয়া হবে
বিদ্যুৎ বিল
গ্যাস বিল
মোবাইল রিচার্জ
বাচ্চার স্কুলের বেতন
হাসপাতালের কোনো বিল
ব্যাংকিং অ্যাপে আলাদা করে কোনো টাকা দেওয়া হবে না। বরং, জরুরি সেবার বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে।
এই ঋণের জন্য ব্যাংকগুলো সুদ আদায় করবে না, তবে একটি মাশুল নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই খরচটি খুব বেশি হবে না। ঋণের মেয়াদ সাত দিন, ১৫ দিন, অথবা ৩০ দিন হতে পারে।
যে হারে দিতে হবে মাশুল
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে,
ঋণের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ মাশুল হবে যথাক্রমে ৩ টাকা, ৪ টাকা ও ৬ টাকা। ২৫১ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল হবে যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১৫ টাকা। ৫০১ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ৭, ১২ ও ২০ টাকা। এক হাজার এক টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১০ টাকা, ২০ টাকা ও ৩০ টাকা। দুই হাজার এক টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১৫ টাকা, ৩০ টাকা ও ৫০ টাকা। তিন হাজার এক টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল হবে ২০ টাকা, ৪০ টাকা ও ৭০ টাকা। পাঁচ হাজার এক টাকা থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২৫ টাকা, ৫০ টাকা ও ৯০ টাকা। সাত হাজার এক টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে যথাক্রমে ৩৫ টাকা, ৭০ টাকা ও ১৩০ টাকা। অর্থাৎ, ১০ হাজার টাকা ঋণ নিলে ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা মাশুল দিতে হবে। ১৫ দিনের জন্য নেওয়া হলে ৭০ টাকা এবং সাত দিনের জন্য ৩৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
সিটি ব্যাংক পিএলসি'র ডিএমডি অরূপ হায়দার মন্তব্য করেন, ‘এই সার্কুলারটার ইমপ্লিমেন্টেশন হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই সার্কুলারটা ইমপ্লিমেন্ট করে তাহলে গ্রাহকদের নিত্যদিনের যে পেমেন্ট করার সময় অনেক সময় ইনস্ট্যান্ট লিকুইডিটির অভাবের জায়গাটা তারা পূরণ করতে পারবে। বিষয়টার শর্টটার্ম রিকোয়ারমেন্ট সাইটটা এরকম। বাট এটার আসলে ইমপ্লিকেশনটা ইভেন ফারস্ট। এর মাধ্যমে আসলে গ্রাহকেরা যখন এই ধরনের বিল পেমেন্ট এই ধরনের লোন ফ্যাসিলিটি থেকে করা শুরু করবেন পাবেন এবং করা শুরু করবেন তাতে করে মানুষের ডিজিটাল এডপ্টেশন বাড়বে যেটা কিনা ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্যতম একটি নিয়ামক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপাদৃষ্টিতে আজকের দিনে এই সার্কুলারটাকে অতটা সিগনিফিকেন্ট মনে হচ্ছে না। বাট আমরা মনে করি যেটি একটি সিগনিফিকেন্ট মাইলফলক। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের একটি সময় উপযোগী সার্কুলার দেওয়ার জন্য এবং আশা করছি যে আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারব এই ফ্যাসিলিটি নিয়ে খুব শিগগিরই।’
যারা পাবেন
বাংলাদেশে বর্তমানে যারা ব্যাংকগুলোর অ্যাপ ব্যবহার করেন, যেমন সিটি ব্যাংকের সিটি টাচ, বিকাশের আস্থা, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচবাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে, সোনালী ব্যাংকের একটি নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপগুলো যারা ব্যবহার করছেন, তারাই কেবল এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। তবে, এই আড়াই কোটি গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
যেভাবে দেওয়া হবে ঋণ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন