প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫১
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আয়েশা সোনিয়া।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে উত্ত্যক্ত করা, হুমকি প্রদান করা অথবা মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত। বিশেষত যখন নারীরা এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন, তখন আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আয়েশা সোনিয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবী আয়েশা সোনিয়া উল্লেখ করেন, বর্তমানে নারীদের মোবাইল ফোনে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কর্মজীবী নারীরা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ অনেকেই এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কখনও কখনও পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে কারো ফোন নম্বর ছড়িয়ে দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কোন নারী যদি ফোনে উত্ত্যক্ত হয়, হুমকির শিকার হয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হন, তাহলে বিষয়টি গোপন না রাখতে বলেন এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, হয়রানিকারীর ফোন নম্বর, কললগ, ক্ষুদে বার্তা, ভয়েস মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্য মুছে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন আয়েশা সোনিয়া। এসব তথ্যের স্ক্রিনশট নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখা উচিত।
হুমকি যদি গুরুতর হয়ে ওঠে বা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে যোগাযোগ করেও সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া সম্ভব।
হয়রানিকারীর মোবাইল নম্বর, কলের তথ্য, মেসেজ ও অন্যান্য প্রমাণসহ নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন। অপরাধের প্রকৃতি ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মামলা করার সুযোগও রয়েছে।
ফোনে বারবার উত্ত্যক্ত করা হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বরাবর অভিযোগ করা যেতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নম্বর এবং হয়রানির তথ্য সংযুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা, হুমকি, ব্ল্যাকমেইল অথবা অন্য ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হলে পুলিশের সাইবার ইউনিটের সহায়তা নেওয়া উচিত। নারীরা সাইবার হয়রানির ক্ষেত্রে পুলিশের ‘Cyber Support for Women’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও সহায্য চাইতে পারেন।
আয়েশা সোনিয়া বলেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীর নীরব থাকা উচিত নয়। অনেক সময় একাধিক ব্যক্তি অথবা একটি সংঘবদ্ধ চক্র এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাঁকে হয়রানি করার জন্য যুক্ত হতে পারে। সুতরাং দ্রুত অভিযোগ করতে এবং মাদুর প্রমাণ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাকমেইল অথবা হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে জানাতে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে ভুলবেন না। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিলে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন