প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের পীরগাছায় পারিবারিক কলহের কারণে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ছেলে হাসানুর রহমানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এই গ্রেপ্তারটি করা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম মাহবুর রহমান, যিনি উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের উত্তর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া হাসানুর, তার ছেলে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে হাসানুর রহমান তার মা হাসনা বেগমের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে হাসানুর অভিমান করে থাকলে পরিবারের সদস্যরা তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, হাসানুর ও তার মা হাসনা বেগমকে একসঙ্গে বসে ভাত খাওয়ার জন্য হাত ধরে অনুরোধ করেন তার শাশুড়ি মর্জিনা বেগম। এ সময় হাসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি দেখে তার বাবা মাহবুর রহমান প্রতিবাদ করেন। তিনি হাতের কাছে থাকা বাঁশের খড়ি দিয়ে হাসানুরকে আঘাত করেন এবং থাপ্পড় দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসানুর ফল কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে তার বাবা মাহবুর রহমানের ডান কাঁধে সজোরে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে মাহবুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী হাসনা বেগম বাদী হয়ে ছেলে হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে হাসানুর আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত হাসানুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন