প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে একটি গণতান্ত্রিক, উৎপাদনমুখী ও অন্তভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলছেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও বাজারভিত্তিক নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএফএলের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ স্থবিরতা, আস্থার সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। নারী, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সৃজনশীল শিল্প খাতে বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এতে সেবার মান উন্নত হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারের ব্যয়ের চাপ কমবে। পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, পেশাদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছাড়া বাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। দুর্নীতি ও অনিয়মকে অর্থনীতির বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি নীতিগত ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমির খসরুর ভাষায়, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। তবে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও সঠিক নীতি অনুসরণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি আবারও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন