প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রথমে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু পরে সেই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান।
বুধবার (৩ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার এ তথ্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমে আনিসুর রহমান পুলিশি ঝামেলা এড়াতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি নিশ্চিত করেন যে তার মা মারা গেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সচিবালয় থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রাপ্ত হননি বলেও তিনি আভাস দেন।
এদিকে, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ঘটনাটি তার মাকে কেন্দ্র করেই কি না। তিনি বলেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি আইন বিদ্যমান রয়েছে। প্রয়োজনে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাসরত তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার একজন ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক বলে জানা গেছে। এছাড়া তার মেয়েও একজন স্কুলশিক্ষক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন