প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত নিশ্চিতভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের দিন স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই ১৩টি সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানায় এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
তিনি মন্তব্য করেন, এই সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও বহুমুখী আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে একটি বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানানো হয় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে।
পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে আসা হয় লি কিয়াংয়ের দ্বারা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিতে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীর জন্য সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানের উদ্দেশ্যে তোপধ্বনি দেওয়া হয়, পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেডও পরিদর্শন করেন।
পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো নিয়ে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যানও সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতার জন্য দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে চীন আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা হিসেবে দেখছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছে, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।
এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন