প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী এলাকার কালার এণ্ড কোং নামের একটি কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে ৭৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। এদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি যে, তারা কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
কারখানার শ্রমিক সাইদুল ইসলাম ও কুলসুম আক্তার জানান, অন্যান্য দিনের মতই মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কারখানায় কাজে আসে শ্রমিকরা। কিছু সময় পর কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে অসুস্থ হওয়ার খবর আসে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পরপরই অসুস্থ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই অসুস্থ শ্রমিকরা মাথা ঘোরা, পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা অনুভব করেন। কারখানার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে আনা হয়।
আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন মন্তব্য করেন, বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ৭৭ জন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
তিনি আরও জানান, হঠাৎ এত রোগী সামাল দিতে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালের রোস্টারের বাইরে থাকা নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিকভাবে কাজে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় ঘটনাটি সামাল দিতে। তবে অসুস্থ শ্রমিকরা আসলে কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
অসুস্থ হওয়ার কারণ হিসেবে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অসুস্থ শ্রমিকরা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনর রহমান বলেন, এ ধরনের সমস্যাকে “মাস সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট” বলা হয়। যা আতঙ্কজনিত কারণে হয়ে থাকে, যেখানে অনেক লোকজনের উপস্থিতি, তাড়াহুড়োর কারণে আতঙ্ক ছড়ানো এসব কারণে মূলত সংঘটিত হয়ে থাকে। এই ঘটনাও তাই হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে খোঁজখবর নিতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষ এখনো কোন ধরনের অফিসিয়াল বক্তব্য প্রদান করেননি। উল্লেখযোগ্য যে, গত মাসের ২৪ জুন এই কারখানায় অসুস্থ হয়ে লিজা আক্তার নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ছুটি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে লিজার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার ফলে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের কারণে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন