প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ : ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নতুন করে প্রায় ১ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত।
দীর্ঘকালীন সংঘাত ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই দেশটির পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাবের মোকাবিলা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচটি প্রদেশে মোট ৩ হাজার ৭৫টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগ শনাক্তকরণ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে নতুন করে আরও বেশি সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গত ১৫ মে শনাক্ত হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বান্দিবুগিও’ ধরন থেকে ছড়িয়েছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। এই অঞ্চলটি দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই প্রাদুর্ভাব আগামী বেশ কিছু মাস চলতে পারে। অন্যদিকে, বেতন বকেয়া পরিশোধের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে কিছু হাসপাতালে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।
ইবোলা রোগ শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এ রোগটির ফলে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকা মহাদেশে এ রোগ থেকে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে টিকা এবং চিকিৎসা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার প্রথম স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের জন্য এই ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পরীক্ষামূলক টিকা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, আরও কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা দ্রুত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পাশাপাশি, দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন