প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বারবার চালু এবং বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে থমকে গেছে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জুট মিলস। ১৯৬০ সালে গড়ে ওঠা এই পাটকলটি একসময় প্রায় ৫ হাজার মানুষের জীবিকার ভরসা হলেও, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লোকসানের চাপে বহুবার বন্ধ হয়ে গেছে এর কার্যক্রম। তবে সরকার আবার এটি বেসরকারি খাতে চালুর উদ্যোগ নেয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকরা।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় নর্দান পিপলস জুট মিল। স্বাধীনতার পর, প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ করে নামকরণ করা হয় কওমি জুট মিল। সে সময় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে উৎপাদিত হতো হরেক রকমের পাটজাত পণ্য, যা দেশের চাহিদা পূরণ করতো এবং বিশ্বের বাজারেও রফতানি হতো।
একসময় এই মিলকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান হয়েছিলো প্রায় ৫ হাজার মানুষের, যা পুরো এলাকার আর্থসামাজিক চিত্র বদলে দিয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লোকসানের মুখে পড়ে ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যায় এর উৎপাদন। ২০১১ সালে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে জাতীয় জুট মিল নাম রেখে আবারও চালু করা হয়, তবে ঋণ এবং পাট সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে ২০১৯ সালে এটি আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ বছরের জন্য ভাড়া দিলে স্বল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু হলেও বছর না ঘুরতেই আবারও স্থায়ী নীরবতা নেমে আসে। তবে বর্তমান সরকার বন্ধ এই জুট মিলটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা স্থানীয় এলাকাবাসী অসাধারণ শ্রমিকদের জন্য আশার আলো হিসাবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরকারের দুই মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই মিলটি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম জানান, বন্ধ পাটকলগুলোর আবারও বেসরকারি খাতে চালুর অংশ হিসেবে এই মিলটি ৩০ বছরের জন্য ইজারায় ইতিমধ্যেই বহুজাতিক একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জ দুই আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'সরকারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেশের সব বন্ধ মিল কারখানা চালু করা হবে। তারই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিল একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি চালু হলে এই এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থা এবং পুরো এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।'
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জুট মিলটি পুনরায় চালু হলে কেবল সিরাজগঞ্জের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানই ফেরত আসবে না, বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে, এভাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন