প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আবদুল ওয়াহাব। রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২১ নম্বর সেক্টরের মধ্যে তার পূর্বপূরুষের অধিকারী ছিল ২৬ বিঘা জমি। রাজউক কর্তৃক অধিগ্রহণের ফলে এখন ওই জমিটি আর তাদের নেই। অধিগ্রহণের সময় প্লট অথবা বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও দালালের খপ্পরে পড়ে এক পয়সা পাননি। বিপুল ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে তারা উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এরপর পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণখালী মৌজায় অবশিষ্ট জমিতে ঘর তুলে জীবনযাপন শুরু করেন। দেড় যুগ পর, সেই বসতবাড়ি থেকেও পরিবার নিয়ে উচ্ছেদের আতঙ্কে রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ। তিনি জানান, পূর্বাচল ২১ নম্বর সেক্টরের পাশে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রঘুরামপুর, ব্রাহ্মণখালী ও কুলিয়াদি মৌজার ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে একটি সরকারি সংস্থা। ইতোমধ্যে কোন মৌজা থেকে কতটুকু জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেটাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি মৌজার মধ্যে রঘুরামপুর মৌজা থেকে ১৯ দশমিক ২১ একর, ব্রাহ্মণখালী মৌজা থেকে ১৫ দশমিক ৮৫ একর ও কুলিয়াদি মৌজা থেকে ৩ দশমিক ৭০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। আর এতেই শঙ্কা পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক পরিবার ও ভূমি মালিক। এদের অধিকাংশই পূর্বে একবার পূর্বাচল প্রকল্পে তাদের ভিটেমাটি ও পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্ন হারিয়েছে। এ ব্যাপারে গত পরশু বাংলাদেশ প্রতিদিন কার্যালয়ে এসে নিজেদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। গতকাল সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে হাজির হন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প শুরু হওয়ার পর একবার ইতোমধ্যে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফের উচ্ছেদ হলে যাদের আর কোথাও জমিজমা নেই, তারা অকূল সাগরে পড়বেন। সরকার যে সংস্থা অধিগ্রহণ করতে চাইছে, তারা কখনো স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেনি। ভূমিমালিকরা কী চান, তাদের মতামত কী জানতে চায়নি। তাদের হয়ে স্থানীয় কিছু এজেন্ট অধিগ্রহণের বিষয়টি জানিয়েছে। আবদুল ওয়াহাব জানান, পূর্বাচলে তার বাপ-চাচার ২৬ বিঘা জমি গেছে। দালালরা প্রতারণা করে সমস্ত টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে তিনি শুধু গাছের বিল বাবদ ৩১ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। পূর্বাচল থেকে উচ্ছেদ হয়ে ব্রাহ্মণখালী মৌজায় এসে তিনি বসতি গড়েন। সেখানে তার ১৪৪ শতাংশ জমিতে তার বাড়ি রয়েছে। নতুন অধিগ্রহণের তালিকায় তার ৭৬ শতাংশ জমি পড়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেউ কথা বলেনি। ভূমি অধিগ্রহণের আতঙ্কে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা মেয়ামুল হাসান মোল্লা বলেন, পূর্বাচল প্রকল্পে একবার তাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেখান থেকে যে টাকা পেয়েছেন, তা দিয়ে এই এলাকায় অল্প কিছু জমি কিনেছেন। এখন শুনছেন এটাও অধিগ্রহণ করবে। আগেরবার অধিগ্রহণের সময় ন্যায্য দাম পাননি, এখন কত পাবেন তাও জানেন না। তারা আর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে চাইছেন না। এখানে অনেকের বাবা, মা, স্বজনের কবর রয়েছে। ভিটেমাটি ও স্বজনের শেষ চিহ্ন আর হারাতে চান না। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাদের আবার যেন নিঃস্ব করে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া না হয়। রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের যুবদল সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন, তিনটি মৌজায় সরকার নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলছে। যাদের জমি, তাদের কারও সম্মতি নেয়া হয়নি। অনেকেই আমার কাছে এসে অভিযোগ করেছে। এরা সবাই কৃষক। তারা পূর্বাচলের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। উচ্ছেদ হওয়ার পর দেড় যুগ আগে এখানে এসে বসতি গড়েছেন। নতুন করে উচ্ছেদ হলে তারা কোথায় যাবেন? শুনছেন অধিগ্রহণের জন্য মৌজা মূল্যের তিন গুণ মূল্য জমির মালিকদের দেওয়া হবে। কিন্তু এই টাকায় তারা অন্য কোথাও জমি পাবেন না। সরকারের কাছে অনুরোধ, হয় অন্য কোথাও ফাঁকা জায়গা অধিগ্রহণ করা হোক, অথবা জমির মালিকদের সঙ্গে বসে যাতে ন্যায্য পাওনা পান, সে ব্যবস্থা করা হোক। একই মানুষকে বারবার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করলে তারা আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক নানা সংকটে পড়বেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন