প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া পর্যন্ত উপকূলীয় সমুদ্রসীমায় জলদস্যু-ডাকাত দমন এবং চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য, চোরাচালানি সিমেন্ট এবং সারও।
কোস্টগার্ডের সূত্র জানায়, টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং কুতুবদিয়া উপকূল ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ডাকাতি, জলদস্যুতা, মাদক এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচারের ঝুঁকি বিবেচনায় সন্দেহজনক নৌযানের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
গত ৫ অক্টোবর, কোস্টগার্ড বেস চট্টগ্রামের অধীন কোস্টগার্ড জাহাজ ‘সবুজ বাংলা’ এবং স্টেশন কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়ার দায়িত্বপূর্ণ সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় সমুদ্রে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহজনক নৌযান ও ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযানে উপকূলীয় ও সমুদ্রপথে পাচারের সময় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিবহন করা সিমেন্ট ও সারও জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে সন্দেহজনক নৌযানে তল্লাশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের সূত্র আরও জানায়, আধুনিক সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ও উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে উপকূল ও সমুদ্র এলাকায় টহল দেওয়া হচ্ছে। রাডার, জিপিএস এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে বিভিন্ন নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো নৌযান শনাক্ত হলে তা থামিয়ে তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদীসংলগ্ন এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। কক্সবাজারের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যু ও ডাকাতির ঝুঁকি মোকাবিলায় টহল অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল ও অভিযান একদিকে জেলেদের নিরাপত্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু-ডাকাতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় এলাকায় আরও জোরদার করা হবে অভিযান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন