প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি একটি সাধারণ খাবারের হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এর স্বাদ অসাধারণ। কারো কাছে বৃষ্টি মানেই হলো ইলিশ-খিচুড়ি খাওয়া, আবার কিছু মানুষের জন্য বৃষ্টির দিন হলেই আয়েশি ঘুমের আয়োজন। বৃষ্টি হোক বা না হোক— খিচুড়ির জন্য রয়েছে বিশেষ প্রাধান্য। আর বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া যেন অন্যরকম একটি অনুভূতি তৈরি করে।
বৃষ্টির দিন হলেই কিছু মানুষের মনে খারাপ লাগে। যদি খিচুড়ির কোনো আয়োজন না থাকে, তাহলে মোড়ল করে মনে হয় যে বৃষ্টি হলে খিচুড়ি খাবার কথা যেন কেউ ভুলে যাবে না। তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর যখন স্বস্তির বৃষ্টি মুখস্থিভাবে আসে, তখন সবাই খিচুড়ি খেতে চায়।
মেঘলা আকাশ, মুষলধারে বজ্রবৃষ্টি হচ্ছে— এমন সব দিনে খিচুড়ির সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই বৃষ্টি বার্তা দেয়— খিচুড়ি খাওয়ার জন্য। কিন্তু কি কারণে এমন অনুভূতি হয়? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খাওয়ার ইচ্ছে? এই প্রশ্নে বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি যা হবার উদ্দেশ্য হলো এর খাদ্যগুণ। আসলে চাল এবং ডাল একসাথে থাকার ফলে এর মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ থাকে যথেষ্ট। গরম গরম খিচুড়ি খেতে ভালো লাগে। ঠাণ্ডা খিচুড়ি সাহসে আসে না, তার স্বাদ কম্পিত লাগে! তাই গরম খিচুড়ি অনেক ধরনের রোগ ঢেলে দিতে পারে। বিশেষ করে গলা ধরার সমস্যায় গরম খিচুড়ি খাওয়া বেশ উপকারী হতে পারে।
আর বৃষ্টির সময় জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। গরম খিচুড়ি সেসব রোগ মোকাবিলার জন্য সহায়ক এমন কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা। এই কারণে এক সময় খিচুড়িকে পথ্য হিসেবে দেখা হয়েছিল।
অনেকে বৃষ্টি পড়লে শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন। মায়ের হাতে রান্না করা খিচুড়ি তাহাদের মনে ঘুরপাক খায়। তাই বৃষ্টি হলেই খিচুড়ি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়তেই থাকে। সে কারণে খিচুড়ি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। হজমের জন্য খিচুড়ি উপযুক্ত খাবার মনে হয়।
প্রকৃতপক্ষে, বৃষ্টির সময় মনে তখন খিচুড়ির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। মুখরোচক এই খাবারের রয়েছে নানা ধরণের। কেউ ভালোবাসেন পোলাওয়ের চাল আর মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি, আবার কেউ পছন্দ করেন ঝোলসমেত পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকের আবার সবজি কিংবা মাংস দেয়ার শখও থাকে।
বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্ক আসলে কী? এর ইতিহাস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, খিচুড়ি মূলত বাউলদের খাবার হিসেবেই পরিচিত। বাউলরা পথে ঘুরে গান গেয়ে বেড়াতেন এবং সেই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান শোনাতে গিয়ে লোকজন তাদের চাল-ডাল দিত। তারা সেসব একসাথে মিশিয়ে রান্না করে খেতেন। পরে এর নামকরণ হয় 'খিচুড়ি'।
অন্যদিকে, কান পেতে শোনা যায়— গ্রামাঞ্চলের মানুষ বৃষ্টির মৌসুমে চারপাশের পানিতে কানায় কানায় ভরে গেলে বাজারে যেতে কষ্টকর হতো। তাই ঘরে থাকা চাল ও ডাল দিয়ে গৃহিণীরা খিচুড়ি রান্না করতেন।
এছাড়া, বৃষ্টিতে কাঠ ভিজে গেলে রান্না করতে বেশ সময় লাগে। তাই চাল-ডাল দিয়ে সহজেই তৈরি করা যেত খিচুড়ি। মাঝে মাঝে গাছে থাকা সবজি বা আলু কেটে খিচুড়িতে মিশানো হত। এইভাবে সহজে প্রস্তুত হতো সবজি খিচুড়ি। ঝড়বৃষ্টির মাঝে দ্রুত রান্নার জন্য খিচুড়ি আদর্শ পদ। বহু বছরের ঐতিহ্য একসময় পরিণত হয় অলিখিত নিয়মে— খিচুড়ি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন