প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার তিলোরাকান্দি নৌকা ঘাট এলাকার ঘটনা জানাচ্ছে যে, দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে যাত্রিবাহী নৌকার মাঝি মারপিট এবং নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পেয়েছেন।
গত ২০ জুন সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দোয়ারাবাজার উপজেলার তিলোরাকান্দি ঘাটের পাকা রাস্তার মাথায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।
আহত নৌকার মাঝি মো. উমর আলী (৪৪) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনাপুর গ্রামের আতমান ব্যক্তি মো. উমর আলী সতেরো বছর ধরে মেসার্স জে-বি শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’ নামে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা পরিচালনা করছেন। এ নৌযানটির বৈধ রুট পারমিট ও সার্ভে সনদ রয়েছে, এবং এটি এলাকার চুকলাপুর ও তিলোরাকান্দি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরের বালুরমাঠ পর্যন্ত পরিবহন করছে।
কিন্তু কিছুদিন ধরে একটা চাঁদাবাজ চক্র নৌকার মাঝি এবং মালিকপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদাবাজরা দাবি করে যে, তাদেরকে টাকা না দিলে এই রুটে এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’ চলাচল করতে পারবেনা। তারা চাঁদা না দিলে নৌকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’-এর মাঝি পুলিশে করা অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, ঘটনার দিন সকালে তিলোরাকান্দি ঘাটে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তিলোরাকান্দি গ্রামের ফুল মিয়া (৪৫), সুরুজ মিয়া (৪০), পলাশ মিয়া (৪০), ফারুক মিয়া (৩৮), সাদ্দাম মিয়া (৩৫)সহ ৫/৭ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা, লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নৌকার মাঝি উমর আলীর ওপর হামলা চালানো হয় এবং বাঁশের লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা নৌকাটি ঘাট থেকে জোর করে ভাসিয়ে দেয়। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, চাঁদা না দিলে এই ঘাটে আর কোনোদিন নৌকা ভেরাতে দেওয়া হবে না এবং পুনরায় যদি কোনোদিন নৌকা ভেরানো হয়, তবে নৌকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে। এই ঘটনার পর থেকে ফুল মিয়াসহ অন্যান্য অবৈধভাবে আরেকটি নৌকা পরিচালনা করছে।
তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ফুল মিয়া বলেন, এলাকার মানুষ আমাকে নৌকা চালানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। জে-বি শিপিং লাইন্সের নৌকা চলাচল করতে না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো টাকা দাবি করিনি এবং কাউকে মারধরও করিনি। পুলিশ এসে তদন্ত করেছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যাত্রী পরিবহনকারী একটি নৌযান চলাচলে বাঁধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন