প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান বর্তমানে চাপে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও ভারতের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে ছোট ছোট প্রদেশে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর ফার্স্টপোস্ট
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশটির প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির এবং জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে মানুষের সীমিত সামর্থ্য এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
পাকিস্তানের সংকট খাদ্যনিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ খাতের বিপুল দেনা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হচ্ছে।
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ৩০০ রুপি ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অদক্ষতাকেও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া দেনার পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সক্ষমতা বাবদ উচ্চ ব্যয়।
দেশটির বৃহত্তম শহর করাচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিক সম্প্রতি নতুন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগতে থাকা শহরটিতে এ সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। তুলনামূলক ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরিচিত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে এবং এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বেড়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটক রাখা এবং তার শারীরিক অবস্থার উদ্বেগের কারণে তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ ইমরান খান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।
গত ১১ অক্টোবর, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণে থাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রদেশটিতে হাজার হাজার সমর্থক মিছিল করেছেন। তারা সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেতুতে বালুর বস্তা রাখা হয় এবং রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাজধানীতে ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের কারণে বিক্ষোভ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপকতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন