প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারের ভেতরে ‘ধীরে ধীরে হত্যা করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তার দুই পুত্র। তারা দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তাদের বাবার প্রতি ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার, অর্থাৎ রাত পোহালে, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে সরকার।
এছাড়া, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের পুত্র সুলাইমান ও কাসিম এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুলাইমান বলেন, "ছোট একটি কক্ষে মানবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, নতুন বই না দেওয়া এবং পরিবার বা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়গুলো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।"
তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় চিকিৎসার অভাবে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, তাকে অল্প সময়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
কাসিম বলেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের আশঙ্কা, চাপ কমে গেলে তার ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, চিকিৎসা, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সাক্ষাৎ এবং পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।
ইমরানের পুত্ররা জানান, তারা রাজনীতিতে জড়াতে চান না এবং বাবার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব গ্রহণের ইচ্ছাও নেই। তাদের মতে, ইমরানও মুক্তির বিনিময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন