প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান করতে বাধ্য হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল।
ফলের পরিণতিতে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
টিবিএস এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ৮ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেই লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকায়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একক হিসাবেও ব্যাংকটির ছয় মাসের লোকসান ১ হাজার ৩২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা হয়েছে। এই সময়ে একক শেয়ারপ্রতি লোকসান ৮ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরই ইসলামী ব্যাংক মুনাফায় ছিল। এই সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালে ১৩৬ কোটি ৩৪ লাখ, ২০২৪ সালে ১০৮ কোটি ৭৮ লাখ এবং ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৬৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটির ভাষ্যে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয়ের বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগ বাড়ার কারণে বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা অর্থ থেকে আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে এ লোকসান হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এস আলম গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে থাকায় সেখান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। কিন্তু আমানতকারীদের মুনাফা নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা, তবে এর মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে নিয়মিত অর্থ আদায় হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন বা বিশেষ ব্যবস্থায় অনাদায়ী ঋণের একটি অংশ ব্যালান্স শিটের বাইরে রাখার সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে বিপুল বিনিয়োগ আটকে থাকার কারণে সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। অন্যদিকে আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই কারণেই ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন