প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন ঢাকায় একটি বৃহৎ ‘জব ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন এনজিও সহায়তা প্রদান করবে। চাকরি প্রদানের পাশাপাশি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও থাকবে এই আয়োজনে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ১১ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলার এনজিওগুলোর সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। সভায় জেলার বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার কোন এলাকায় কোন এনজিও কী ধরনের প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং এসব কার্যক্রম মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে। এনজিওগুলোর প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর সফল উদ্যোগগুলোর প্রচার এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফল উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। তাই ভালো উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় এনজিওগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ১১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, চাকরির সুযোগ চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে। পাশাপাশি আয়োজনের স্থান, সময় ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।
সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ডেঙ্গু ফ্রি জোন’ গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফরিদা খানম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় এনজিওগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এনজিওগুলোর কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন