প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান মজুরি আন্দোলন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে, পোশাকশিল্পের কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শ্রমিক নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন মজুরি আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার জানান, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা এবং জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার জন্য কাজ করছেন। এজন্য মজুরি বোর্ডের সভা দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে রাতেও সভা করার প্রস্তাব দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি সালাহউদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার আশ্বাস পেলে শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তারাফদার গণমাধ্যমকে বলেন, মজুরি বোর্ড স্বাধীন সংস্থা হওয়ায় মন্ত্রণালয় তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না। তবে দ্রুত সুপারিশ জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে, নতুন মজুরি ঘোষণার সময় নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এক জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি ঘোষণাকে যৌক্তিক মনে করেন। তবে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কার্যকর করার মতো অবস্থায় শিল্প খাত নেই। নতুন মজুরি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের দর নিয়ে আলোচনার জন্য কারখানার মালিকদের সময় প্রয়োজন।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কার্যকর হয়েছিল। শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে বর্তমান মজুরি কাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন