প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলায় অবুঝ দুই সন্তানকে স্বজনের বাড়িতে রেখে আসার পর এক দম্পতির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক আর্থিক সংকট, শারীরিক অসুস্থতা এবং তীব্র বিষণ্নতার কারণে নিজেদের বাসস্থানে চরম এই সিদ্ধান্ত নেন তারা।
মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনার কারণে ছোট দুই শিশু আয়ুংশ ও মিথুন একলহমায় এতিম হয়ে পড়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে জীবনের এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে বিভিন্ন প্রতিকূলতার বিষয় উল্লেখ আছে।
নিহত দম্পতির পরিচয় চিহ্নিত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন ৩০ বছর বয়সী শেশালা মেঘনা এবং তার স্বামী শেশালা নরেশ। মৃত্যুর আগে মঙ্গলবার এই দম্পতি তাদের দুই শিশুসন্তান আয়ুংশ ও মিথুনকে নিকটাত্মীয় এক ফুফুর বাড়িতে রেখে আসেন। এরপর তারা নিজ বাসস্থানে ফিরে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্তকারীদের ধারণা, বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারটিতে জমে থাকা ব্যক্তিগত ও আর্থিক সমস্যা তাদের এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে একটানা সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সুইসাইড নোটে আর্থিক দৈন্য, বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা এবং তীব্র মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতাকে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে নরেশ পেশায় বিদ্যুৎ বিভাগের একজন লাইনম্যান হিসেবে কাজ করেন এবং তার স্ত্রী মেঘনা ছিলেন গৃহিণী।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রবেশ করছে যে, নরেশ দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য তার চিকিৎসাও চলছিল। নরেশের মামা মোহন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক কোন্দল বা বিরোধের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না এবং এ ঘটনায় তাদের কোনো ধরনের অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের সন্দেহ নেই।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠান পুলিশ। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর পেছনের পুরো পরিস্থিতি ও কারণ পরিষ্কার করতে পুলিশ সংগৃহীত সুইসাইড নোটের পাশাপাশি অন্যান্য আলামত ও তথ্য গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন