প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্বামীর মারধরের এর সাত দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাছুদা বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে পুলিশ নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কালাই থানার তদন্ত পুলিশের ওসি দিপেন্দ্র নাথ সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মন্ডলের কন্যা। তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের পুত্র। তাঁদের একটি ১৩ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।
নিহতের ভাই বছির মন্ডলের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে মাছুদার সঙ্গে মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
প্রায় এক বছর পর আবার তাঁদের সংসার শুরু হয়। গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে না থাকার সুযোগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা ও মারামারি শুরু হয়। মামলা অনুযায়ী, এক পর্যায়ে মেহেদী হাসান শাপলা তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন, ফলে মাছুদা গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে যান।
পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সময় শুক্রবার রাতে মাছুদা বেগম মারা যান।
বছির মন্ডল বলেন, ‘আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বোন হত্যার বিচার চাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে কালাই থানার তদন্ত পুলিশের ওসি দিপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাছুদা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর শুক্রবার রাতেই নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে কালাই ও ক্ষেতলাল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরিকল্পনামাফিক দাবি করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে হারুঞ্জা গ্রামে পুলিশের একটি অভিযানের সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর নাম আলোচনায় আসে বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মাছুদা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, শরীরে আঘাতের ধরন, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিসহ সব বিষয় তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন