প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের সময় ৯০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের বেশির ভাগই ছিল শান্তিপূর্ণ।
তবে কয়েকটি এলাকায় সংঘাত, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বুধবার এ সম্পর্কে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে মোট ১২০টি বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি বিক্ষোভ ছিল কোনো ধরনের বড় সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ।
কিন্তু বাকি ১২টি মিছিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপজাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জনসমক্ষে সহিংসতা, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডাকাতির মতো অপরাধ।
এদিকে পুলিশের এক স্বতন্ত্র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে গুলিতে একজন নিহত হন।
ওই এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন ছোট দোকান, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘স্পাজা’ দোকান নামে পরিচিত, সেগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালায় একদল স্থানীয় বাসিন্দা। একই রাতে নিরাপত্তা জোরদার করতে দক্ষিণ আফ্রিকার ৯টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জোহানেসবার্গ শহরের কেন্দ্রস্থল হিলব্রো এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেখানে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হন। অন্যদিকে বন্দরনগরী ডারবানে এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর আগের রাতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি একটি ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দেন, পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পেছনে ছিল অভিবাসীবিরোধী একটি আন্দোলনের ঘোষণা। এই আন্দোলন বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনেই দেশজুড়ে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা চলছিল। সেই সময় বহু বিদেশি নাগরিককে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরী হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন