প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি উপকূলীয় শহর বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সেখানে তিন লাখের বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত করপাস ক্রিস্টি শহরটি বিশ্বের প্রথম কোনো আধুনিক মার্কিন শহর হিসেবে সম্পূর্ণ পানিহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র খরা, ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা এবং নতুন উৎস তৈরির কাজে ধারাবাহিক বিলম্বের ফলে এই মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শহরটির পানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে সেখানকার দ্রুত বিকাশমান শিল্প খাত। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় এমন পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্ট এবং একটি প্লাস্টিক কেমিক্যাল কারখানার কারণে এই সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে নির্মিত ওই প্লাস্টিক কারাখানাটি প্রতিদিন ঠিক তত পরিমাণ পানি শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করে, যা করপাস ক্রিস্টি শহরের সমস্ত বাসিন্দার দৈনিক খরচের সমান। এই সংকট মোকাবিলায় সামুদ্রিক লবণাক্ত পানিকে ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি পানিতে রূপান্তর করতে একটি ডিস্যালিনেশন প্লান্ট তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল।
তবে তহবিল সংকট, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নানা মহলের বিরোধিতার কারণে প্রকল্পটির কাজ আটকে আছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে টেক্সাসে একের পর এক খরা দেখা দেওয়ায় শহরের প্রধান জলাধারগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে গেছে।
সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করপাস ক্রিস্টি আমেরিকার অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় সম্পূর্ণ পানিহীন হয়ে পড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক কিছু বৃষ্টিপাত সামান্য স্বস্তি দিলেও শহরের হাতে এখনো মাত্র এক বছরের মতো পানি জমা রয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে একটি জরুরি অবস্থার সমতুল্য।
পার্থক্যটি সামাল দিতে গভীর নলকূপ খনন এবং শিল্প কারখানার প্রয়োজনে বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন সমুদ্রজল শোধনাগার নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় ও বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। ইতিমধ্যে শহরের বাসিন্দাদের বাগান পরিচর্যা ও গাড়ি ধোয়ার মতো কাজে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ভবিষ্যতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িক পানি সরবরাহ বন্ধ অথবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা সীমিত করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমহ্রাসমান পানির উৎসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরগুলোর টিকে থাকার লড়াইয়ে এই সংকটকে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন