প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, ইরানে নতুন করে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন এ দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সম্পর্কে তাঁকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর ধারনা ছিল, সমস্যাটি ইতোমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে। একই দিনে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকের সময় হেগসেথ মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে তিনি তার ডেপুটি স্টিফেন ফেইনবার্গের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পুরো ঘটনাকে 'শতভাগ ভুয়া' বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও একই অবস্থান নিয়েছে এবং বলেন, হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি। অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া কিংবা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে ট্রাম্প গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেননি, অস্ত্রের মজুত সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি এবং পরবর্তী কৌশল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট মতৈক্য নেই। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য ও শেষ পরিণতি সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, এতে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এনবিসিকে জানান, প্রেসিডেন্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ। তাঁর ধারণা ছিল, ইরানকে সমঝোতায় আনা সহজ হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব মিলছে না। অন্যদিকে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। দেশটি বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন