প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানকে কাবু করার জন্য অব্যাহত হুমকির মধ্য দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে তেহরানের আরেকটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ আগস্ট) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি ব্যাংকটির নাম উল্লেখ করেননি।
মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ‘ব্যাংক মিসর’-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখাটিকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানা গেল।
বেসেন্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, "প্রয়োজন হলে আমরা আর্থিক সহিংসতার পথই বেছে নেব। আমরা তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি, আপনারা কারা তা আমরা জানি, আপনারা নিজেরাও জানেন আপনারা কারা। এসব কর্মকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।" বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতে পারে।
নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে জি-২০ জোটের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে রবিবার তিনি উল্লেখ করেন, "প্রতি সপ্তাহেই আপনারা এমন আরও অনেক পদক্ষেপ দেখতে পাবেন। আমরা ব্যাংকগুলোকে দিয়েই শুরু করছি এবং তাদের জানিয়ে দিচ্ছি, ইরানি অর্থ রাখা কিংবা সেই শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে থাকার মধ্যে ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’।
গত সপ্তাহে ট্রেজারি বিভাগ প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এরা এমন সব নেটওয়ার্কের অংশ যা ইরানকে তেল থেকে আয় করতে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে এবং সাইবার কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করছে।
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয়কমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, "এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যর্থ হবে।" জুলাইয়ের শেষের পর এই প্রথমবার রবিবার সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
বেসেন্ট জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বিশ্বের প্রধান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর নিজ নিজ সমকক্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সহযোগিতার বিষয়টি উৎসাহিত করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এপিকে আরও জানিয়েছেন, বৈঠকে তিনি চীনের সমকক্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তেহরানের সঙ্গে অব্যাহত বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার দায়ে বেইজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্র অনিচ্ছুক এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একে সম্পূর্ণ মিথ্যা বয়ান হিসেবে অভিহিত করেন, যা গণমাধ্যম প্রচার করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত।
সূত্র: আলজাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন