প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কার্নিভালের কয়েক ঘণ্টা আগে আবাসনসংকট চরমে, ২ হাজারের কক্ষের ভাড়া ৭–৮ হাজার টাকা; আগাম বুকিংয়ে পর্যটকদের ভোগান্তি:
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পর্দা উঠছে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬-এর। দীর্ঘ ৯ বছর পর ফিরে আসা দুই দিনের এই উৎসব ঘিরে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটছে। আয়োজক কমিটি ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রত্যাশা, এবার পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। কিন্তু উৎসব শুরুর আগমুহূর্তে পর্যটকদের সামনে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাসন। তালাশ বিডির নিজস্ব অনুসন্ধানে কয়েকটি আবাসিক হোটেলে ফোন করে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আগে যে কক্ষের ভাড়া ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, এখন সেই কক্ষের জন্য চাওয়া হচ্ছে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা।
শুধু ভাড়া বৃদ্ধি নয়, নতুন করে কক্ষ বুকিং দেওয়ার সুযোগও মিলছে না বলে ফোনে জানানো হয়েছে কয়েকটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে। আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে কক্ষ না পাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে কুয়াকাটায় এসে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন পর্যটকেরা। উৎসব উপভোগের প্রত্যাশা নিয়ে আসা মানুষের জন্য আবাসনসংকট এখন বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডির নিজস্ব অনুসন্ধানে কয়েকটি আবাসিক হোটেলে ফোন করে শুক্রবার ও শনিবারের কক্ষভাড়া সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। এতে জানা গেছে, যেসব কক্ষের স্বাভাবিক ভাড়া ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সেগুলোর জন্য বর্তমানে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২ হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া ৮ হাজার টাকা হলে তা চার গুণ; আর ২ হাজার ৫০০ টাকার কক্ষের ভাড়া ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা হলে তা প্রায় তিন থেকে সোয়া তিন গুণ। অর্থাৎ, কক্ষভেদে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া চাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে।
কার্নিভাল ও ছুটিকে কেন্দ্র করে আবাসনের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাড়তি চাহিদার মধ্যে ভাড়া এতটা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পর্যটকদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত এই ব্যয় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
কার্নিভাল ঘিরে আগাম বুকিংয়ের চাপ বেড়েছে। আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রায় তিন শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে ফোন করা কয়েকটি হোটেল থেকে নতুন করে কক্ষ বুকিং দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের জন্য আবাসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কক্ষ না থাকার কথা জানানো হচ্ছে, আবার কোথাও চড়া ভাড়া শুনে বিকল্প থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে ফোন করে ভাড়ার তথ্য নেওয়া হয়েছে, তাদের নাম ও কক্ষের ধরনভিত্তিক তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করা গেলে ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র আরও নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার সব আবাসন মিলিয়ে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, কার্নিভাল ঘিরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অবশ্য প্রত্যাশিত সব পর্যটক একই সময়ে আসবেন কিংবা রাতযাপন করবেন, এমন নয়। তারপরও রাতযাপনের ধারণক্ষমতা ও প্রত্যাশিত পর্যটকসংখ্যার ব্যবধান আবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর বড় চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগাম বুকিংয়ের বাইরে থাকা পর্যটকদের ভোগান্তি এই চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
এখন প্রশ্ন, বিপুল পর্যটকসমাগমের প্রত্যাশার বিপরীতে আবাসন ও ভাড়ার তথ্য কতটা স্বচ্ছভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে? পর্যটকেরা কক্ষ খুঁজে না পেলে বা অস্বাভাবিক ভাড়ার মুখে পড়লে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই কার্নিভাল। উৎসবে প্রীতম হাসান, হাসান (আর্ক), চিশতী বাউল ও ঐশীর সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি ‘সেইলর’-এর বিশেষ লাইভ ফ্যাশন শো, স্থানীয় বাউল গান, রাখাইন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া ক্রিকেট তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন ও তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে বিশেষ বিচ ক্রিকেট ম্যাচ, ছয় কিলোমিটার বিচ রান ও ম্যারাথন, শিশুদের বিচ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য স্থানীয় খাবার ও পিঠার স্টল এবং চর বিজয়ে স্পিডবোটে ভ্রমণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সৈকত ও চরাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি আবাসন ভাড়া ও পর্যটকসেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই, ভাড়ার তালিকা পরীক্ষা এবং বুকিংয়ের শর্ত স্পষ্ট করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু উৎসবের সময় আবাসনসংকট ও অস্বাভাবিক ভাড়ার অভিযোগ পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে নেতিবাচক করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া ভাড়ার তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হবে।
পর্যটকদের আগমনকে স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখার পাশাপাশি তাঁদের স্বার্থ রক্ষা, ভাড়ার স্বচ্ছতা এবং আবাসনসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। কার্নিভালের আনন্দ যেন থাকার জায়গা খোঁজা আর বাড়তি ভাড়ার চাপে ম্লান না হয়—এটাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন