প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে চলাচল করা পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে থাকার কারণে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ মার্চ "২৬ দৈনিক ইত্তেফাকে" সংবাদ প্রকাশের পর সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হলেও তা আবার আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে নাসিরনগর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এর অবস্থা চরমভাবে অবনতি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে যায়, ফলে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সড়কে গর্তে চাকা পড়লে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার অসংখ্য মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নুরপুর, চৈয়ারকুড়ি, শ্যামপুর, বেলুয়া, নরহা, হরিণবেড় ও হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কটির বেশিরভাগ অংশ ভেঙে খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং ছাড়াও পাথর, অনেক জায়গায় খোয়া ও বালি পর্যন্ত উঠে গেছে। বড় বড় গর্তের কারণে একদিন বৃষ্টি হলেই প্রায় এক সপ্তাহ পানি জমে থাকে। তখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটতে থাকে। স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে এই সড়কের নাম দিয়েছেন ‘কোমড়ভাঙা রোড’।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঠিকাদারের ব্যর্থতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না। দ্রুতই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্যও এই রাস্তার সমস্যা নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন