প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মন্তব্য করেছেন যে, বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ছাড়া কোনো একক দেশ বা শক্তির পক্ষে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শান্তির পথ নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দেশ ও জনগণের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে একত্রিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের ইস্ট লেক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন ও স্মরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সামরিক সংঘাত, দখলদারি, পরাশক্তির প্রতিযোগিতা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং সামরিকীকরণের পাশাপাশি দারিদ্র্য, বৈষম্য, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ুসংকট বিশ্বশান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিকে শুধুমাত্র যুদ্ধের অনুপস্থিতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করাও স্থায়ী শান্তির অপরিহার্য ভিত্তি।
কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কোনো জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বশান্তির জন্য সিপিবির পক্ষ থেকে ৭টি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং আরো ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এছাড়া শান্তি, উন্নয়ন ও অভিন্ন সমৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া; জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং শ্রমিক, কৃষক, নারী, যুব, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ জনগণের অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন