প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা অঞ্চলের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণের অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে নকল ইমিটেশনের গহনা বাক্সে রেখে আসল স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধৃত স্বর্ণের ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ। পুলিশ জানায়, নগরের মিমি সুপার মার্কেটের 'নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স'-এর মালিক বিপ্লব বসাক ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ওই দোকানে প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত রোমেন দে (৩৬)-কে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৪ আগস্ট বার্ষিক স্টক মেলানোর সময় স্বর্ণের গহনার বাক্সে আসল স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে নকল ইমিটেশন গহনা পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোমেন দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সাতটি চুড়ির বাক্সে থাকা ৫৩টি আসল স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে সেখানে নকল গহনা রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট রাতে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন স্বীকার করেন, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার নগরের বাকলিয়া ও অন্যান্য এলাকায় বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রেখেছেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালখালী থেকে বন্ধকী ব্যবসায়ী শ্যামল সিংহ (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শ্যামলকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ ও ২০ আগস্ট কোতোয়ালী, বাকলিয়া ও চকবাজার থানা এলাকার বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানে 'মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স', 'সাহা জুয়েলার্স', 'মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স', 'শাহ আমানত জুয়েলার্স', 'ফেন্সী জুয়েলার্স' ও 'তাজমহল জুয়েলার্স' সহ একাধিক বন্ধকী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো জব্দ করা হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের আরো চার সদস্য জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন