প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অবিবাহিত নারীদের বিধবা ভাতা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে অন্যদের নামে ভাতা চালু ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম (৩৫), হাফিজুল ইসলাম (৪২) ও আব্দুস ছামাদ (৫০) শারীরিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম। এরপরও তাদের প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারও ক্ষেত্রে শ্রবণ প্রতিবন্ধী, আবার কারও ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তথ্য দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এদিকে প্রকৃত বিধবা নারীদের বঞ্চিত করে অবিবাহিত নারীদের নামেও বিধবা ভাতা চালু করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, এসব অনিয়মের সময় নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে জামাল হোসেন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমের তালিকা প্রণয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান এবং ভাতার অর্থ উত্তোলনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।
অন্যদিকে রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা দেওয়ার পরও তারা ভাতা বা কার্ড পাননি। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের নামেই সরকারি ভাতা চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু রায়গঞ্জ ইউনিয়ন নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নে ভাতা কার্ড বিতরণ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। তাদের প্রশ্ন যাদের নামে ভাতা চালু রয়েছে, অথচ তারা টাকা পাননি, সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কারা উত্তোলন করেছেন?
সম্প্রতি দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে অভিযোগের তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউ ভাতা গ্রহণ না করলেও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা চালু রয়েছে। এছাড়া হাসনাবাদ ইউনিয়নের আনিসুর রহমানসহ আরও কয়েকজন অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি ভাতা প্রকৃত ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন