প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের আকাশে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি টাইফুন যুদ্ধবিমানকে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশের আকাশে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতের আকাশে দূরবর্তী একটি সংঘর্ষের নিম্নমানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। কিন্তু ঘন অন্ধকারে ধারণ করা ফুটেজটি থেকে ঘটনাটি যে কোনো যুদ্ধবিমানকে ঘিরে ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। তীব্র সংঘাতের মধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমানে হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
গত মাসের মাঝামাঝি (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে হুতি বিদ্রোহীরা। তারা প্রমাণ হিসেবে প্রায় চার মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে যুদ্ধবিমানটি লক্ষ্যবস্তু করার দৃশ্য, দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়া এবং পরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
প্রায় এক যুগ ধরে সংঘাত চললেও গত মাস থেকে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের মোখা শহরসহ বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব এলাকা সৌদি আরবের জ্বালানি রফতানির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলে পাল্টা অভিযান শুরু করে। জবাবে, হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করে।
সম্প্রতি সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার দায়ও স্বীকার করে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আল-সাবাহ এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি তেল স্থাপনায় সৌদি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারপন্থি বাহিনীকে সহায়তা দিতে সৌদি আরব নিয়মিত হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন