প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা এবং পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ইরান মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ইরান, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী অন্যান্য দেশগুলিকেও সতর্ক করেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকার সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের নৌসেনার দু’টি জাহাজকে নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এর জবাবে, আমেরিকা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছে। এর মধ্যে একটি হামলা খার্গ দ্বীপের উপকূলে, যা ইরানের তেল রফতানির একটি প্রধান কেন্দ্র।
সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার সতর্ক করে বলেন, “আইআরজিসি-র উদ্দেশে আমাদের বার্তা খুব স্পষ্ট। তোমরা যদি আমাদের দুটো জাহাজে গুলি করো, আমরা আরও বড় হামলা করব, তোমাদের তিনটে নিয়ে উড়িয়ে দেব।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারির পর, ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে পিছপা হয়নি। তাদের দাবি, তিনটি মার্কিন ট্যাঙ্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত তিনটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি-র নৌবাহিনী একটি বিবৃতিতে অন্যান্য দেশের উদ্দেশে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি সেনার কথায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। অনুমোদিত জলপথ দিয়ে চলাচল করুন। কোনও সন্দেহজনক তৎপরতা দেখাবেন না। না-হলে এর পরের হামলা আপনাদের উপর হবে।”
তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই হামলা এবং পাল্টা হামলার ফলে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে এবং সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। এরপর থেকেই সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে ধারাবাহিকভাবে নিশানা করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দিয়ে তারা শুল্ক দাবি করেছে। একাধিক বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজও হরমুজে আক্রান্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে আর্থিক এবং সামরিকভাবে এতটাই দুর্বল করে দেওয়া, যাতে তারা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। সেইসঙ্গে, ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক স্তরে দুই দেশের সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে হরমুজের তীরে উত্তাপ আবার বেড়ে গেছে।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন