প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসরা চব্বিশের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।" কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন, "তাদের কালো ছায়া এখনো দেশে রয়ে গেছে।" তিনি বলেন, "এই আগ্রাসন সংস্কৃতির মাধ্যমে তাড়াতে হবে।" দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ সেই দীর্ঘ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
জাতীয় খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।" তিনি বলেন, "এই জুলাইকে আমাদের সবাইকে টিকিয়ে রাখতে হবে।" তিনি প্রত্যেককে আহ্বান জানিয়ে বলেন, "দেশকে আমরা সবাই মিলে গড়ব। জাতিকে আমরা বিভক্ত করতে চাই না।" তিনি এ কথা বলেন, "যারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায় তারা দেশের দুশমন।" আমাদের ভিন্নমত ভিন্ন আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরও যোগ করেন, "চব্বিশের ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ সাময়িকভাবে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে।" তিনি আশাবাদী যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে "ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে চিরতরে বিদায় করব ইনশাআল্লাহ।"
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম, বাচিক শিল্পী শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, নাট্যকার মাহবুব মুকুল ও আবৃত্তিকার আহসান হাবীব খান সঞ্চালনায় ওই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
জুলাই উৎসবে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সঙ্গীত কেন্দ্রের সভাপতি তাফাজ্জল হোসাইন খান, কবি ও সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খান, বাংলাদেশ চারুশিল্পী পরিষদের সভাপতি ইব্রাহিম মণ্ডল, কবিতা বাংলাদেশের সেক্রেটারি ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, গীতিকার সাইফুল আরেফিন লেলিন ও জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহ তাহিরের মমতাময়ী মা।
অনুষ্ঠানে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্বে ছিল- পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, আবৃত্তি, জারি, সংগীত, কাওয়ালি, গম্ভীরা ও অভিনয়। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় বিশেষ নাটক ‘রক্তাক্ত জুলাই’, যেখানে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গণজাগরণের শিল্পরূপ তুলে ধরা হয়েছে।
এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে- সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ সঙ্গীত কেন্দ্র, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও নাট্য সংসদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি মঞ্চ, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি, মহানগর শিল্পীগোষ্ঠী, রাজধানী শিল্পীগোষ্ঠী, অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদ, উচ্চারণ শিল্পীগোষ্ঠী, জাগরণ শিল্পীগোষ্ঠী, সন্দীপন শিল্পীগোষ্ঠী, নিমন্ত্রণ সাংস্কৃতিক সংসদ, সওগাত সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, সারগাম সাংস্কৃতিক সংসদ, আজাদী সাংস্কৃতিক সংসদ, রেদওয়ান শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন শাখা। একক গান পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান, শিল্পী আমিরুল মোমেনিন মানিক, শিল্পী রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন