প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাতে পুলিশ সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানায় এএফপি।
শুক্রবার বিকেলে কোহাতের ঐতিহাসিক ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’ কমপ্লেক্সে হামলাটি সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে আঘাত করার পর সেখানে গুলিবর্ষণ শুরু করে। হামলার সময় পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের লোকজন কমপ্লেক্সের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন। হামলায় মসজিদ ও কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর অন্তত সাত সশস্ত্র ব্যক্তি কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের ছয়জন নিহত হয়েছে। তবে শনিবারও স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের একটি অংশে কয়েকজন হামলাকারী অবস্থান করছিলেন বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল এবং হামলাকারীর সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোহাত জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আহতদের অধিকাংশই পুলিশ সদস্য। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের কোহাতের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে।
কোহাত শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। ওল্ড পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সটি জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইউনিটের অফিস রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সমন্বিত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগঠনটি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে বাড়তে থাকা হামলার জন্য আফগান ভূখণ্ডে অবস্থানকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। তবে আফগান তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন