প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণকারী মোহাম্মদ জুনায়েদ।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে খাবার ও পানি বিতরণকারী মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের আটক ও হয়রানি করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং ব্যাপক সমালোচনার পর আইনজীবীদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জুনায়েদ ও তার পরিবার মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
জুনায়েদের আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, জুনায়েদ এবং তার পুরো পরিবারকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের একজন সদস্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত।
জুনায়েদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা শেষ করে দিল্লির আরএমএল হাসপাতাল থেকে ফেরার সময়, সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দিল্লি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং তাকে আটকে নেয়। এরপর তার চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সারারাত আটকে রাখার পর, তাকে পরদিন সকালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আন্দোলনকারীদের জন্য বিতরণ করা খাবার ও পানির অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অনুদান এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো খাবারই বিতরণ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে তিনি দিল্লিতে ফেরেন।
জুনায়েদের অভিযোগ, শুধু তাকে আটক করা হয়নি, বরং উত্তর প্রদেশ পুলিশ গাজিয়াবাদের মাসুরিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাবা মুস্তফাকে আটক করে। এ সময় তাদের প্যান কার্ড, ব্যাংকের পাসবইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করার অভিযোগও তিনি করেন।
এছাড়া, মিরাটে তার বোনের বাড়িতে গিয়ে ভগ্নিপতি ও শ্বশুরকে আটক করে জুনায়েদকে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে, মিরাট পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, জুনায়েদের পরিবারের কাউকে আটক করা হয়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর) গাজিয়াবাদ এবং মিরাট শাখা জুনায়েদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটি তাদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাসুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরেন্দ্র মালিকের সাথে বৈঠক করেছে।
এপিসিআর এক বিবৃতিতে জানায়, জুনায়েদের পরিবারের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা অবস্থায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনটির তরফ থেকে কড়া হুঁশিয়ারির পরেই জুনায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও ধারণা করা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন