প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র আহলে রাসুল বিরোধী এবং ইসলামের খেলাফত উৎখাতকারি মোয়াবিয়া এজিদ চক্রের অনুসারী খারেজি কুফরি ধারা ও বাতিল শিয়াবাদি কুফরি ধারা থেকে ঈমানী অস্তিত্বের সুরক্ষা ও ইসলামের আসল ধারা রক্ষার জন্য, হকের অবলম্বন ও দিকনির্দেশনা প্রদানের শোকরিয়া উদযাপন উপলক্ষে ঐতিহাসিক গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, হাজীপাড়ায় শোকরিয়া সমাবেশ এবং সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান মেহমান এবং বিশেষ মোনাজাত করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উপদেষ্টা, শায়খুল হাদিস আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত।
এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা এমদাদুল হক সায়ীফ, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াস শাহ, আল্লামা শেখ নঈম উদ্দিন, আল্লামা মুফতি রেজাউল কাওছার এবং সাবিনা সাদাত সাফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পবিত্র গাদিরে খুম মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, দশম হিজরির ১৮ জিলহজে বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন, যা ইসলামের নেতৃত্ব, হেদায়েত এবং ঈমানি আদর্শের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, গাদিরে খুমের ঘোষণার মাধ্যমে হযরত আলী (আ.)-কে ‘মাওলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং আহলে রাসূল (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা, অনুসরণ ও আনুগত্যকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তিনি আরো বলেন, আহলে বাইতের আদর্শ মানবজাতির জন্য ন্যায়, সত্য এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথনির্দেশনা প্রদান করে। আল্লামা ইমাম হায়াত উল্লেখ করেন, আল্লাহতাআলার হাবীব, প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহ্যিক শেষ বিশেষ হজ্ব থেকে মক্কাতুল মুকাররামা হতে পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে দশম হিজরী ১৮ জিলহজ্ব কোরআনুল করীমের শেষ আয়াত শরীফ নাজিলের পূর্বক্ষণে লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে আল্লাহতাআলার ইচ্ছাক্রমে কেয়ামত পর্যন্ত সকল মুমিনের ঈমান রক্ষা ও ইসলাম সুরক্ষায় এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য অনুসরণীয় দিকনির্দেশনায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
সে ঈমানী নীতিনির্ধারনী ঘোষণা মোবারক হলো, মাওলা আলী আলাইহিস সালামকে সর্বোচ্চ খলিফাতুর রাসুল ও তাওহীদ রেসালাতের পর ইসলামের সর্বোচ্চ অথরিটি সকল মুমিনের প্রধান মাওলা মাওলায়ে আলা ঘোষণার মাধ্যমে নুরে রেসালাত পবিত্র আহলে রাসুল আলাইহিমুস সালামকে সকল মুমিনের জন্য ঈমানের কেন্দ্র ও হকের মাপকাঠি এবং ইসলামের সর্বোচ্চ অনুসরনীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ঈমানি চেতনা ও নৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য গাদিরে খুমের শিক্ষা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
গাদিরে খুমে মাওলায়ে আলাকে খলিফাতুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সমগ্র উম্মতের মধ্যে সর্বোচ্চ মাওলা ঘোষণার শোকরিয়া দিবসে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বাতেল শিয়াবাদি চক্রান্ত ও মোয়াবিয়াবাদি খারেজি কুফরীয়াত এবং সব বাতিলের মুলুকিয়ত থেকে ঈমান দ্বীন মিল্লাত রক্ষায় নুরে রেসালাত প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল কেন্দ্রীক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পূণরুজ্জীবনে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও খেলাফতে ইনসানিয়াত বিপ্লবে শরিক থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও সালাতু সালাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন