প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত আসামী ধামা ইলিয়াছের প্রদান করা তথ্যে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
অধিকন্তু, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধামা ইলিয়াছকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্ততেই ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ দিন দুপুরে ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। পরে, গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
এসপি মাসুদ আলম জানান, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায়, যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্ট্যাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন