প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের দিরাই–শাল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস বহু পুরোনো ও ঘটনাবহুল। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে করুণা সিন্ধু রায়ের নাম।
করুণা সিন্ধু রায় ছিলেন কৃষকবান্ধব রাজনীতির একজন পরিচিত নেতা। অবিভক্ত ভারতের সময় তিনি দিরাই–শাল্লা এলাকা থেকে আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। ঐতিহাসিক সূত্রে তাঁকে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার একজন নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রজাস্বত্ব ও কৃষকের অধিকার নিয়ে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিজে জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি কৃষকদের স্বার্থের প্রশ্নে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি আইনসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং কৃষক আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
১৯৪৪ সালের আসাম প্রাদেশিক পরিষদের কার্যবিবরণীতেও করুণা সিন্ধু রায়ের নাম পাওয়া যায়। সেখানে তিনি সুনামগঞ্জ ও হাবিগঞ্জের বোরো অঞ্চলের উদ্বৃত্ত ধান সরকার কেনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে জরুরি আলোচনার দাবি তুলেছিলেন। একই সময়ে কৃষকদের ওপর সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ নীতির প্রভাব নিয়েও তিনি পরিষদে বিষয় উত্থাপন করেন।
করুণা সিন্ধু রায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর পুত্র বরুণ রায় পরবর্তীতে দিরাই–শাল্লার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
দিরাই–শাল্লার রাজনীতির অতীত অনুসন্ধান করলে তাই করুণা সিন্ধু রায়ের নাম শুধু একজন পুরোনো রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, কৃষকের অধিকার ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে সামনে আসে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন