প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালে অভিবাসী পাচারের ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু ঘটানোর জন্য এক গুয়াতেমালার নাগরিককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করা হয়। ৩৯ বছর বয়সী রিগোবার্তো রোমান মিরান্ডা-ওরোজকোকে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পাচারের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। মিরান্ডা-ওরোজকো স্বীকার করেছেন যে, এই ঘটনায় নিহত দুজন এবং গুরুতর আহত একজনের যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
২০২২ সালের জুন মাসে, মেক্সিকো সীমান্তের শহর লারেডো থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিও যাওয়ার পথে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের আবদ্ধ পেছনের অংশে অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই যাত্রায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ট্রাকটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। ফলে ভেতরে থাকা মানুষজন ঠান্ডা বাতাস থেকে বঞ্চিত হন।
পরে সান আন্তোনিওর একটি নির্জন সড়কের পাশে পরিত্যক্ত ট্রাকটি পাওয়া যায়। ট্রাকটির ভেতর থেকে ৪৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন মারা যান। মোট ৫৩ জন প্রাণ হারান।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া অভিবাসীরা গরম থেকে বাঁচতে নিজেদের পোশাক খুলে ফেলেছিলেন। ট্রাকের দেয়ালে বাইরে বের হওয়ার জন্য আঁচড় কাটার চিহ্নও পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী জাস্টিন সিমন্স বলেন, "জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তাদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল।" নিহতদের মধ্যে ২১ জন গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন।
মিরান্ডা-ওরোজকোকে ২০২৪ সালে গুয়াতেমালায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি অভিবাসী পাচারের ষড়যন্ত্র, পাচারের ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সহায়তা এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক অরল্যান্ডো গার্সিয়া তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায় ভয়াবহ ওই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালায় প্রায় ২০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকারী চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ফেলিপে ওরদুনা-তোরেসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার প্রধান সহযোগী আরমান্দো গনজালেস-ওর্তেগার ৮৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ট্রাকটির চালকসহ আরও কয়েকজনের সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায় গত কয়েক দশকে হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ২০১৭ সালে সান আন্তোনিওর একটি বিপণিবিতানের পাশে রাখা ট্রাকে আটকে পড়ে ১০ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে। ২০০৩ সালেও সান আন্তোনিওর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন